বাংলা সাহিত্য কেন পড়ব

বাংলা সাহিত্য কেন পড়ব?

Stories

আমার মূলত সাহিত্যের প্রতি প্রচন্ড পরিমাণে অনিহা ছোটবেলা থেকেই।কবিতা,ছন্দ,এই সব একেবারে বুঝতামই না,যেটাকে আপনি মাথার উপর দিয়ে যাওয়া ধরে নিতে পারেন। সাহিত্যের প্রতি অনিহাটা আরো প্রবল হয় বিষেশত মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা পরে। মনে হলো যেন দারুন একটা অজুহাত খুজে পেয়েছি পড়ার টেবিলে সাহিত্যকে না সময় দেবার। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও বাংলা সাহিত্যের বদনাম আমি চাইলে সারা রাত করতে পারবো কিন্তু আমি বাংলা সাহুত্যের বদনাম করতে লিখতে বসি নাই, মাইকেল মধুসুদূন দত্ত বাংলা সাহিত্যের এক অমুল্য সম্পদ। তো যাই হোক,বাংলা সাহিত্যে অনিহা থাকা সত্ত্বেও পরিক্ষায় পাশ করতে বেগ পেতে হয়েছিল না যার জন্য আরো বেশি বাংলা সাহিত্যকে অকাল কুষ্মাণ্ডু ভাবার সুযোগ হয়েছিল। আমি মনে করতে শুরু করেছিলাম যে বাংলা সাহিত্যের জন্ম এমনি এমনি, কোন কারন ছাড়া হয়েছিল,যার প্রয়োজনীয়তা আমাদের জীবনে নেই বল্লেই চলে। কিন্তু দোষটাজে আমারই তা বুঝতে আমার বেশি দেরি হয়েছিল না,কারন শুধুমাত্র আমি একাই ছিলাম বাংলা সাহিত্যের দোষ দেবার,আর কেউ সেরকম দিতো না। “আঙ্গুর ফল টক”আমি বাংলা সাহিত্য বুঝতাম না বা আনন্দের সাথে পড়তাম না বলেই বাংলা সাহিত্যকে এতদিন বেকার বলে এসেছি।আসলে দোষটা আমারই,কথায় আছে ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়,তাই এখন সাহিত্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। আমার এক শ্রদ্ধেয় ম্যাম বলেছিলেন-যতই বড় হয় না কেন বাংলা এবং ইংরেজি তোমার পিছু ছাড়বে না।
Click Here
কিছুদিনের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তারই বোধ হয় প্রতিফলন পেলাম। তাই একদিন আমার খুব কাছের বন্ধ বিসিএস সাগর,যার কাছে অনাআসে সব কিছু বলা যায় তাকেই আমার সমস্যার কথা জানালাম। ওকে আমরা মজা করে বিসিএস ডাকি কারন ও সবচেয়ে বেশি বিসিএস সমন্ধে লাফালাপি করে এবং অবশ্য ভালো জানে। সাগর আমার সম্যার কথা মনোযোগ সহকারে শুনার পর এমন একটি সমাধানের কথা বল্লো,বিশ্বাস করেন ভাই,তা শোনার জন্য আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। সাগর বল্লো সাহিত্য পড়তে হবে। কথাটা শোনার পড় যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো এই ভেবে যে আমি তো কোন সাহিত্য পড়ি নাই ছোট বেলায় এবং সাহিত্য আমার ভালোও লাগে না। তাই শান্ত হলাম আর শান্ত স্বরে সাগরকে বল্লাম আমি সাহিত্য পছন্দ করি না। সাগর আমাকে চুপ করে বসিয়ে দিলো এবং বল্লো তুই কিচ্ছু জানিস না,তোকে সাহিত্যই পড়তে হবে এবং তোর সমস্যার সমাধান একমাত্র সাহিত্যই দিতে পারবে এবং তার পাশাপাশি কিছু ভালো লেখকের বই পড়ারা পরামর্শ দিলো যেমন – বুদ্ধদেব গুহ,সমরেশ মজুমদার,মাহমুদুল হক ইত্যাদি। সাগর সাহিত্যের প্রমে এতটাই কাবু হয়েছিল যে ও বিশ্বাসই করতে না যে বাংলা সাহিত্যকে ভালো না বেসে থাকতে পারে এমন কেন মানুষই বোধ হয় এই বাংলাদেশে নেই। তাই আমার সাহিত্যের প্রতি অনিহা দেখে সাগর প্রথমে অবাক হয়েছিল।সাগর পরিশেষে একটা কথাই বলেছিল যে, সাহিত্যের মজা পাওয়া আর বাংলা লেখায় পারদর্শিতা তুই এই লেখকের বই এর উপর ছেড়ে দে, বই গুলো পড়, ভাল না লাগলে আমায় বলিস। বাবার এজটা কথা কুব মনে পড়ছে, বাবা বলেছিলেন, “সুখের শুরুটা সুব্দর হয় না, সেটা সবসময় শেষে থাকে”। তাই আর কি করবো,বই গুলো পড়ি, অন্য একদিন না হয় সেই বই গুলো পড়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা তোমাদেরর জানাবো।

  • Credit:আমানুল্লাহ আমান |
  • ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ |
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৪৯ তম ব্যাচ |

1 thought on “বাংলা সাহিত্য কেন পড়ব?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *