করোনাকালের অভিজ্ঞতা।

করোনাকালের অভিজ্ঞতা।

Stories

সেদিন ছোট ভাইকে বাড়ি নেওয়ার জন্য তাঁর মাদ্রাসায় গেছিলাম যেহেতু মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি দেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের মিরপুরে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য মাদ্রাসাও বলা চলে,যেখানে এতিমদের ও পড়ালেখার জন্য ভালো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। যদিও কাজের ব্যস্ততার জন্য একটু দেরিতেই যাওয়া হলো।গিয়ে দেখি সে তাঁর জামাকাপড় সবই গুছিয়েই রেখেছে। মাদ্রাসা থেকে বাহির হবো এমন সময় অন্য এক কক্ষে একটা ছেলেকে দেখে হাঁটা স্থির হয়ে গেল।একটা ছেলে তাঁর সব জামাকাপড় গুছিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে মনে হচ্ছে।কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, হঠাৎ সে তাঁর সব জামাকাপড় ট্রাঙ্ক থেকে খুলে আবার বিছানায় শুয়ে পড়লো।এই দৃশ্যটি আমাকে অবাক করে তুললো আমার খুব আগ্রহ জাগলো ব্যাপার জানার।তাই, তাঁর কক্ষে ঢুকলাম,এবংভাবলাম তাকে সালাম দিব কিন্তু সে তাৎক্ষনিক বসে আমাকে সালাম দিল। সালামের উত্তর নিয়ে বললাম তোমার নাম কি ভাইয়া? পরে পরিচয়পর্ব সেরে বললাম, আমি>>আচ্ছা,তোমাকে জানালা দিয়ে দেখলাম তুমি তোমার জামাকাপড় গুছিয়ে রেখেছিলে বাড়ি যাওয়ার জন্য কিন্তু হঠাৎ করে সব জামাকাপড় ট্রাঙ্ক থেকে খুলে শুয়ে গেলে কেন? কোনো সমস্যা?? ছেলেটি>>ভাইয়া,আসলে আমার বাবা-মা কেউ নেই আর আমার বাড়ি বলতে কিছুই নেই এই মাদ্রাসা’ই আমার বাড়ি। আমি>>বিষন্ন মনে বললাম, তুমি এতিম বুঝলাম কিন্তু তুমি বাকিদের মতো ট্রাঙ্ক গুছিয়ে ছিলে কেন? ছেলেটি >> একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলল,ভাইয়া আমার খুব ভালো লাগে সকলের মতো জামাকাপড় গুছাতে তাই প্রতিবার আমি সব গুছিয়ে দারোয়ান মামার সাথে মাদ্রাসায়’ই থেকে যাই। আমি>> মনটা এক নিমিষেই খারাপ হয়ে গেল তাঁর কথা শুনে।আচ্ছা,তুমি একা একা থাকো, তোমার খারাপ লাগে না? ছেলেটি >> না ভাইয়া,অভ্যাস হয়ে গেছে। এছাড়াও আমার সাথে আরও দুইজনও থাকে। আমি>>তাঁরাও কি এতিম?? ছেলেটি >>না তবে তাঁদের বাবা-মায়ের সাথে ডিভোর্স হয়ে যাওয়াতে এখানে ভর্তি করিয়ে চলে গেছে। আমি>>হুম বুঝলাম।এখন তো একটা ভাইরাস জন্ম নিয়েছে,যা করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত। জানোতো? যার জন্য সবাইকে বন্ধ দেওয়া হলো। ছেলেটি >>হুম,হুজুরদের মুখে শুনলাম। আমি>>ভয় করে না?? ছেলেটি >>মাঝে মাঝে ভয় হয়,কিন্তু মা-বাবার কাছে যাওয়ার কথা মনে হলে আর ভয় হয়না। আমি ঠিক ঔই মুহূর্তে যেন কথা বলার ভাষা হারিয়ে পেললাম। তারপরেও করোনা ভাইরাসের জন্য একটু সচেতন থাকতে বললাম। (হঠাৎ, বন্ধু রাইসুলের কলে কথার সমাপ্তি ঘটল। বাস ছাড়ার আর মাত্র ২০ মিনিট বাকী রাইসুল বলল তাই ছোট ভাইকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। যদিও ছেলেটিকে কিছু টাকা নেওয়ার কথা বললাম কিন্তু সে বলল হুজুরগণ সব সময়’ই বলেন কখনও অপরিচিত জনের হাতের কিছু নিবে না এবং খাবে না) খুব ভারাক্রান্ত মনে বাড়ী ফিরে আসলাম।এতে বাসায় এসে আব্বু-আম্মুর বারণ যে ঘরের বাহিরে কোনো মতেই বাহির হওয়া যাবে না। যাইহোক বাড়ী আসার কয়দিনের মধ্যেই কিছু সংকটময় ও অসচেতন অবস্থা দেখতে পেলাম সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে। কেউ কেউ মহামারীর জন্য কাজ হারিয়ে বেকার, কেউ’বা কাজ করলে ও মালিকের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে হিমসিম খাচ্ছে। আর অন্যদিকে দোকানপাট তো অবিরত চলতেই’ছে।কেউ’ই সরকারের নিষেধাজ্ঞা মানছে না।অবশ্য অনেক লোকে হাস্যরসের চলে বলে না!! গ্রাম্য দোকানপাট মানে অনেক বিশেষজ্ঞের সমাগম হওয়া, তবে আমার গ্রামটা ও তার থেকে ভিন্ন নয়। যাইহোক এই করোনাকালে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার ছোঁয়া পেতে সক্ষম হয়েছি। এইতো সেইদিন সরকারি ত্রাণ বন্টনের জন্য স্বেচ্ছাসেবক লোক দরকার নেওয়া হচ্ছিলো।আমার এক বড়ভাই আমায় বলল “তোমার নাম দিব নাকি অনেক অভিজ্ঞতা হবে”, আমি কিছু না ভেবেই বললাম নাম দিতে কারণ কখনো এমন অভিজ্ঞতা নেই তাই কিছু অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই মূলত নাম দেওয়া।যাইহোক সমাজের দরিদ্র মানুষের কাছে নিজ হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়ার অনুভূতি’ই আলদা। তাই পরবর্তীতে ভাবলাম নিজেইরা একটা ত্রাণ কর্মসূচী সম্পন্ন করি যাতে গ্রামের মধ্যবিত্ত লোকজনদের জন্য।কারণ সমাজের মধ্যবিত্ত লোকজনদের অবস্থা একটা প্রবাদের মতো ” কিছু বলতেও পারে না,সইতেও পারে না” প্রকৃতপক্ষে, দরিদ্ররা বিভিন্ন ভাবে ত্রাণ পেয়ে থাকে কিন্তু মধ্যবিত্ত লোকজন সবকিছু থেকেই বঞ্চিত হয়। তাই এই মধ্যবিত্ত ত্রাণ কর্মসূচী সম্পন্ন করার জন্য আদা-জল খেয়ে চেষ্টা করতে লাগলাম কিন্তু এইসব কর্মসূচীর উদ্যোগ গ্রহণ করা সহজ হলেও বাস্তবায়ন কঠিন। কারণ বাস্তবায়নের মূল প্রতিবন্ধকতা হলো অর্থ। তাই সমাজের বিভিন্ন দেশী-প্রবাসী লোকজন কাছে এই কর্মসূচী অবগত করলাম এতে আমরা ২৫-৩০ জন মধ্যবিত্ত লোকজনের হাতে ৭ দিনের খাদ্যসামগ্রী তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি,আলহামদুলিল্লাহ। এভাবেই অনেক অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে করোনাকাল সার্থক হচ্ছে।

  • মোঃরাকিব উদ্দিন |
  • ফিন্যান্স & ব্যাংকিং |
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (49তম ব্যাচ) |

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *